৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলার খবর, বিশ্বের নজরে
তাজা খবর
৮০ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, টলিউড পরিচালক ও অভিনেতা ওয়াসিম আক্তার গ্রেফতার বিকাশ ভবন অভিযানে ২০১৬ সালের চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা, একাধিক দাবিতে মিছিল সাঁকরাইলে ফুড সেফটি দপ্তর ও পুলিশের যৌথ অভিযান, লাইসেন্স না থাকায় বন্ধ হোটেল বিস্কুটের পেটি কেটে হাতে খড়ি, ইছামতির মাটি ছুঁয়ে মৃন্ময়ী প্রতিমায় কলেজ ছাত্র দীপনের জয়যাত্রা বাড়ি ঘিরে পুলিশের তল্লাশি, পূর্ব ভোগডাবরিতে উদ্ধার ১০২ কেজিরও বেশি গাঁজা
মুর্শিদাবাদ

২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি, পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হুমায়ুন কবীর

লিখেছেন Editor - Bengal News Net ১২৬ বার পঠিত ২ মিনিটের পড়া
২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি, পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হুমায়ুন কবীর

**কলকাতা:** আর্থিক সংকটে জর্জরিত মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ২৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই তাঁকে ক্লাবের সভাপতি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং পরপর চেক বাউন্স হওয়ার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল মহামেডান স্পোর্টিংয়ের কার্যকরী কমিটি।


বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসে ক্লাবের কার্যকরী কমিটি। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, হুমায়ুন কবীরকে সভাপতি পদ থেকে অপসারণ করা হবে। তাঁর পরিবর্তে নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গজল জাফরকে।


ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের সময় হুমায়ুন কবীর মহামেডানের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট দূর করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি ক্লাবের দেনা মেটানোর পাশাপাশি প্রায় ২৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির কোনওটাই পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ।


অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের স্বাক্ষর করা একাধিক চেক পরপর বাউন্স করে। শুধু একবার নয়, টানা তিনবার চেক বাউন্স হওয়ার ঘটনায় ক্লাব কর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। জানা গেছে, মোট প্রায় দেড় কোটি টাকার চেক ক্লাবকে দেওয়া হলেও সেই অর্থের একটি টাকাও ক্লাবের অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি।


এই ঘটনার পর গত সোমবার ক্লাবের পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবীরকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসে উল্লেখ করা হয়, তাঁর দেওয়া চেকের অর্থ পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি ক্লাবের প্রতি অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বহন করছে, যা আইনগতভাবেও গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


তবে আইনি নোটিস পাঠানোর পরও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি বলে দাবি ক্লাব কর্তৃপক্ষের। এরপরই জরুরি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে হুমায়ুন কবীরকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।


এদিকে, মহামেডান মাঠে ‘টাকা কবে পাব?’ লেখা পোস্টার ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। ক্লাবের সদস্য ও সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কার্যকরী কমিটি সভাপতির পদ থেকে হুমায়ুন কবীরকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।


ক্লাবের সহ-সভাপতি ওয়াসিম আক্রম জানিয়েছেন, ক্লাবের সংবিধান মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “মহামেডান স্পোর্টিংয়ের ইতিহাসে এই ঘটনা একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।”


তবে সভাপতি পরিবর্তনের পরও মহামেডানের আর্থিক সংকট কাটেনি। ক্লাবের উপর এখনও বিপুল দেনার বোঝা রয়েছে। নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেই আর্থিক সমস্যা থেকে ক্লাবকে বের করে আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা।

সম্পর্কিত খবর