৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলার খবর, বিশ্বের নজরে
তাজা খবর
৮০ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, টলিউড পরিচালক ও অভিনেতা ওয়াসিম আক্তার গ্রেফতার বিকাশ ভবন অভিযানে ২০১৬ সালের চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা, একাধিক দাবিতে মিছিল সাঁকরাইলে ফুড সেফটি দপ্তর ও পুলিশের যৌথ অভিযান, লাইসেন্স না থাকায় বন্ধ হোটেল বিস্কুটের পেটি কেটে হাতে খড়ি, ইছামতির মাটি ছুঁয়ে মৃন্ময়ী প্রতিমায় কলেজ ছাত্র দীপনের জয়যাত্রা বাড়ি ঘিরে পুলিশের তল্লাশি, পূর্ব ভোগডাবরিতে উদ্ধার ১০২ কেজিরও বেশি গাঁজা
পশ্চিমবঙ্গ

বিস্কুটের পেটি কেটে হাতে খড়ি, ইছামতির মাটি ছুঁয়ে মৃন্ময়ী প্রতিমায় কলেজ ছাত্র দীপনের জয়যাত্রা

লিখেছেন Editor - Bengal News Net ৩৫ বার পঠিত ৩ মিনিটের পড়া
বিস্কুটের পেটি কেটে হাতে খড়ি, ইছামতির মাটি ছুঁয়ে মৃন্ময়ী প্রতিমায় কলেজ ছাত্র দীপনের জয়যাত্রা

**বসিরহাট:** অদম্য জেদ, একাগ্রতা আর শিল্পের প্রতি ভালোবাসা—এই তিনকে সঙ্গী করেই নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছেন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার টাকির থুবার মোড় এলাকার তরুণ প্রতিমাশিল্পী দীপন বিশ্বাস। ছোট্ট বয়সে বিস্কুটের পেটি কেটে ঠাকুর তৈরির যে নেশার শুরু, আজ তা পরিণত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ শিল্পসত্তায়। জেলা ও রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর তৈরি মৃন্ময়ী প্রতিমা এখন পৌঁছে যাচ্ছে ভিনরাজ্যেও।


দীপনের শিল্পযাত্রার শুরু মাত্র ১২ বছর বয়সে। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। বাবা ভোলাকৃষ্ণ বিশ্বাস বাজার থেকে বিস্কুট আনতেন। সেই বিস্কুটের পেটি কেটে তার উপর বিভিন্ন ঠাকুরের অবয়ব দেখে দেখে তৈরি করতেন দীপন। ধীরে ধীরে মাটির প্রতিমা তৈরির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে।


বাবার টিফিনের জন্য দেওয়া টাকা থেকে কিছুটা করে জমিয়ে বিচুলি, রং, তুলি কিনতেন তিনি। আর প্রতিমা তৈরির প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতেন স্থানীয় ইছামতি নদীর মাটি। প্রথমে মাত্র এক ফুটের প্রতিমা তৈরি করতেন। পরে দুই ফুট, ধীরে ধীরে আকার ও শিল্পদক্ষতা—দু’টোই বাড়তে থাকে।


আজ সেই দীপন টাকি গভমেন্ট কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের পুজো উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে যেমন প্রতিমা তৈরির বরাত আসছে, তেমনই ভিনরাজ্যের উদ্যোক্তারাও তাঁর শিল্পকর্মের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।


শুধু প্রতিমা তৈরি করাই নয়, নিজের উপার্জনের টাকাতেও চালাচ্ছেন শিল্পচর্চা। প্রতিমা বিক্রি করে যে অর্থ উপার্জন হয়, তার বড় অংশই ফের প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল, রং ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার কাজে ব্যয় করেন দীপন। বাকি টাকা দিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালান তিনি।


দীপনের প্রতিভার স্বীকৃতিও মিলেছে একাধিক জায়গায়। তাঁর মা গীতা বিশ্বাসের দাবি, রাজ্যস্তরের কলা উৎসবে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তাঁর ছেলে। পাশাপাশি মহকুমা, জেলা এবং টাকি এলাকার বিভিন্ন শিল্প প্রতিযোগিতাতেও পুরস্কৃত হয়েছেন দীপন।


ছেলের প্রতিভাকে আরও বড় পরিসরে পৌঁছে দিতে চান মা গীতা বিশ্বাস। তাঁর স্বপ্ন, সুযোগ পেলে ছেলে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে পড়াশোনা করবে। কিন্তু আর্থিক অনটন সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা। পরিবারের আয়ের প্রধান ভরসা বাবার ছোট ব্যবসা। কোনওরকমে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের শিল্পচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছে পরিবার।


তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা দীপনের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। ইছামতির মাটি, বিচুলি, রং আর তুলি দিয়েই নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।


মায়ের কথায়, ছোটবেলা থেকেই ছেলের মধ্যে অন্যরকম প্রতিভা দেখতে পেয়েছেন তিনি। সেই প্রতিভা একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও পৌঁছবে—এই স্বপ্নই এখন গীতা বিশ্বাসের। তাঁর আশা, দীপনের তৈরি প্রতিমা একদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে শোভা পাবে এবং তাঁর শিল্পের মাধ্যমে দেশের মুখও উজ্জ্বল হবে।


বিস্কুটের পেটি কেটে যে হাতের হাতে খড়ি হয়েছিল, আজ সেই হাতেই তৈরি হচ্ছে মৃন্ময়ী প্রতিমা। টাকির ইছামতির পাড় থেকে শুরু হওয়া দীপনের এই শিল্পযাত্রা এখন নতুন স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলেছে।

সম্পর্কিত খবর