কুয়ে নদীর জলচ্ছ্বাস ও অতিবৃষ্টিতে বড়ঞায় বন্যা, জলমগ্ন একাধিক গ্রাম পরিদর্শনে পুলিশ সুপার
**মুর্শিদাবাদ:** কুয়ে নদীর জলচ্ছ্বাস এবং টানা অতিবৃষ্টির জেরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সোনাভারুই, বৈদ্যনাথপুর, তারাপুর-সহ একাধিক গ্রামে ঢুকে পড়েছে বন্যার জল। স্থানীয় সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই শতাধিক বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
বন্যার জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষিজীবী মানুষ। প্রায় **৫৭০৬ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায়** চলে যাওয়ায় আমন ধানের চাষ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বহু জমিতে সদ্য রোপণ করা ধান জলের তলায় চলে গিয়েছে। ফলে কয়েক লক্ষ টাকার ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছন মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার **শচীন মক্কার**। জলমগ্ন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি **নাজমা খাতুন**-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা।
বন্যার জেরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলবন্দি পরিবারগুলির জন্য দ্রুত ত্রাণ, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি জল দ্রুত না নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, কৃষকদের আশঙ্কা, জমিতে দীর্ঘদিন জল জমে থাকলে সদ্য রোপণ করা আমন ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাতে চলতি মরশুমের চাষে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাঁদের। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কুয়ে নদীর জলস্তর এবং বৃষ্টির পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের আরও নিবিড় নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি জলবন্দি পরিবারগুলিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এখন জলস্তর কত দ্রুত কমে এবং প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে বড়ঞার বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ কত দ্রুত পান, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।