ভুতনিতে গঙ্গার জল বিপদসীমার ওপরে, প্লাবিত ২৫টিরও বেশি গ্রাম! জলবন্দি ১৫ হাজারের বেশি মানুষ
**মালদা:** ফের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদার মানিকচকের ভুতনি এলাকায়। প্রতিনিয়ত বাড়ছে গঙ্গা নদীর জলস্তর। ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা। তার উপর কেশরপুরে বাঁধ ভেঙে নতুন করে জল ঢুকে পড়ায় ভুতনির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেশরপুরের বাঁধ ভেঙে প্রায় **২৫টিরও বেশি গ্রাম জলমগ্ন** হয়ে পড়েছে। দুর্লভ টোলা, ভুবন টোলা, কেদার টোলা, মানিকনগর-সহ একাধিক গ্রাম ব্যাপকভাবে প্লাবিত। জলবন্দি হয়ে পড়েছেন **১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ**।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে তৎপরতা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মানিকচক এলাকায় রয়েছেন তিন রাজ্যের তিন প্রতিমন্ত্রী। মানিকচক থেকেই বন্যা পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাঁদের সহযোগিতা করছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল।
দুর্গত মানুষের জন্য ইতিমধ্যেই **সাতটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে**। পাশাপাশি বাঁধের উপর আশ্রয় নেওয়া প্রায় **৪০০ পরিবারের হাতে শুকনো খাবার** তুলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
জলবন্দি মানুষজনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। তবে অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে চাইছেন না। ফলে তাঁদের উদ্ধারে প্রশাসনের কাছে তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ।
প্রশাসনের আশঙ্কা, আগামী দিনে গঙ্গার জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণে জলবন্দি মানুষজনকে যেকোনও পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল।
ভুতনির পরিস্থিতির দিকে এখন কড়া নজর প্রশাসনের। গঙ্গার জলস্তর এবং বাঁধের পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, জলমগ্ন গ্রামগুলিতে দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।