মালদার ভূতনীতে ফের নদীবাঁধ ভাঙন! হু হু করে ঢুকছে গঙ্গার জল, প্লাবিত একাধিক সংরক্ষিত এলাকা
**মালদা:** ফের নদীবাঁধ ভাঙনে আতঙ্ক ছড়াল মালদার মানিকচকের ভূতনীতে। কেশরপুরে নতুন করে একাধিক জায়গায় নদীবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেই ভাঙা অংশ দিয়ে হু হু করে গঙ্গার জল ঢুকে পড়েছে ভূতনীর উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক সংরক্ষিত এলাকায়। এর জেরে ভূতনীর বিস্তীর্ণ অংশে কার্যত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে কেশরপুর এলাকায় গঙ্গার প্রবল জলের তোড়ে প্রথমে পুরনো রিং বাঁধের প্রায় **২০ মিটার অংশ** ভেঙে যায়। স্থানীয়দের দাবি, এই পুরনো রিং বাঁধটি প্রায় এক বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল এবং এর জন্য প্রায় **১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ** করা হয়েছিল।
পুরনো রিং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে অদূরে তৈরি করা নতুন রিং বাঁধ দিয়েও গঙ্গার জল আটকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই বাঁধও জলের প্রবল চাপে ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। এরপর নতুন রিং বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে গঙ্গার জল দ্রুত উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়ে।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই পুরনো রিং বাঁধের আরও একাধিক জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, কিছুটা দূর অন্তর অন্তর **প্রায় পাঁচটি জায়গায় বাঁধ ভেঙে যায়**। শুক্রবার সকাল থেকেও সেই ভাঙা অংশ দিয়ে অনবরত গঙ্গার জল ঢুকতে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ইতিমধ্যেই কেশরপুর ও কালুটনটোলা সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু পরিবার জলবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জলমগ্ন বাঁধের গোড়ার কাছে কার্যত প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। যেকোনও সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
জলবন্দি পরিবারগুলির তরফে প্রশাসনের কাছে দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। নতুন করে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ভূতনীর বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ভূতনীবাসী।