জলে ডুবে তিন স্কুল, পরীক্ষা কেন্দ্র সরল মানিকচক কলেজে! বোটে করে ভূতনির ৬৩৬ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে উদ্ধার প্রশাসনের
**মালদা:** একদিকে বন্যার জলে ডুবে রয়েছে তিনটি হাইস্কুল। অন্যদিকে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা। পরীক্ষা কেন্দ্রও জলমগ্ন। এমন পরিস্থিতিতে কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল মালদার ভূতনির জলবন্দি এলাকার শত শত পরীক্ষার্থী। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল জেলা প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূতনির জলবন্দি এলাকায় মোট **৬৩৬ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী** রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বহু ছাত্রছাত্রী জলবন্দি বাড়িতে থেকেই কষ্ট করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগে দেখা যায়, যে তিনটি স্কুলে তাঁদের পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ার কথা ছিল, সেগুলিও বন্যার জলে ডুবে রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনটি স্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্র সরিয়ে **মানিকচক কলেজে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র** করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু পরীক্ষাকেন্দ্র বদল করেই থেমে থাকেনি প্রশাসন। পরীক্ষা শুরুর দু’দিন আগেই জলবন্দি ভূতনি এলাকা থেকে সমস্ত পরীক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করে মানিকচকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শনিবার ধাপে ধাপে নৌকায় করে ভূতনির পরীক্ষার্থীদের মানিকচকে নিয়ে আসা হয়। এরপর সরকারি ব্যবস্থাপনায় মানিকচক সদরের তিনটি স্কুলে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও প্রশাসনের তরফে করা হয়েছে।
ভূতনি সেতুতে পরীক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সপ্তর্ষি নাগ-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁদের হাতে খাতা ও পেন তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য পরীক্ষার্থীদের আগাম শুভেচ্ছাও জানান প্রশাসনের কর্তারা।
বন্যার জেরে চারদিক জলমগ্ন হলেও যাতে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষা কোনওভাবেই থমকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই বিশেষ উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ অভিভাবকদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরিয়েছে।