৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলার খবর, বিশ্বের নজরে
তাজা খবর
৮০ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, টলিউড পরিচালক ও অভিনেতা ওয়াসিম আক্তার গ্রেফতার বিকাশ ভবন অভিযানে ২০১৬ সালের চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা, একাধিক দাবিতে মিছিল সাঁকরাইলে ফুড সেফটি দপ্তর ও পুলিশের যৌথ অভিযান, লাইসেন্স না থাকায় বন্ধ হোটেল বিস্কুটের পেটি কেটে হাতে খড়ি, ইছামতির মাটি ছুঁয়ে মৃন্ময়ী প্রতিমায় কলেজ ছাত্র দীপনের জয়যাত্রা বাড়ি ঘিরে পুলিশের তল্লাশি, পূর্ব ভোগডাবরিতে উদ্ধার ১০২ কেজিরও বেশি গাঁজা
পশ্চিমবঙ্গ

১০৫ বছর বয়সে মুক্তি রসিক চন্দ্রের, দীর্ঘ ৪ দশকের জেলজীবনের অবসান

লিখেছেন Editor - Bengal News Net ৪১ বার পঠিত ২ মিনিটের পড়া
১০৫ বছর বয়সে মুক্তি রসিক চন্দ্রের, দীর্ঘ ৪ দশকের জেলজীবনের অবসান

**মালদা:** দীর্ঘ জেলবন্দিজীবনের অবসান। ১০৫ বছর বয়সে পূর্ণাঙ্গ মুক্তি পেলেন মালদার মানিকচকের বাসিন্দা রসিক চন্দ্র মণ্ডল। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বাকি সময় মুকুব করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া রসিক চন্দ্রের পরিবারে।


রসিক চন্দ্র মণ্ডল মালদার মানিকচকের পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৮৮ সালে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে নিজের ভাই সুরেশ মণ্ডলকে খুনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলায় ১৯৯৪ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর।


দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর ২০১৮ সালে মুক্তির আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রসিক চন্দ্র। তবে সেখানে তাঁর আবেদন সফল হয়নি। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শীর্ষ আদালতও তাঁর সাজা বাতিল করেনি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে।


২০২০ সালে ৯৯ বছর বয়সে আগাম মুক্তির আবেদন করেন রসিক চন্দ্র। আবেদনে তাঁর বার্ধক্য এবং বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালের মে মাসে সেই আবেদনের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে বিষয়টি জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট।


এরপর দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলতে থাকে। অবশেষে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে শীর্ষ আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন বা প্যারোলে মুক্তির নির্দেশ দেয়। সেই সময় থেকেই জেলের বাইরে ছিলেন তিনি।


গত শুক্রবার তিন বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে। রসিক চন্দ্রের বর্তমান বয়স এবং শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আদালত জানায়, যাবজ্জীবন সাজার বাকি সময় তাঁকে আর কারাগারে কাটাতে হবে না। অর্থাৎ, কার্যত সম্পূর্ণ মুক্তি পেলেন তিনি।


প্রায় চার দশক ধরে চলা এই মামলার শেষ পর্বে এসে পরিবারের কাছে ফিরলেন শতায়ু রসিক চন্দ্র। বর্তমানে তাঁর স্মৃতিশক্তি অনেকটাই ক্ষীণ। ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না তিনি। জীবনের শেষ সময়টুকু এবার পরিবারের সঙ্গে নিজের মতো করে কাটানোর সুযোগ পেলেন ১০৫ বছরের এই প্রবীণ।

সম্পর্কিত খবর