বাবরি মসজিদ অডিও-কাণ্ডে বহরমপুর থানায় হাজির হুমায়ুন কবীর, ভাইরাল কথোপকথন ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদ
**বহরমপুর:** ভাইরাল অডিও-কাণ্ডে বহরমপুর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। পুলিশের পাঠানো নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার নির্ধারিত সময়ের আগেই থানায় পৌঁছন তিনি। অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে তদন্তের অংশ হিসেবেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, ওই কথোপকথনে মুর্শিদাবাদে নির্মীয়মাণ বাবরি মসজিদ চত্বরে রাতের অন্ধকারে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানো এবং তা ঘিরে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই কথোপকথনের একটি অংশে হুমায়ুন কবীরের কণ্ঠস্বর রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ভাইরাল অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। এরপরই হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়। গত শনিবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে বহরমপুর থানার পুলিশ ওই নোটিস দেয়। নোটিসে ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে বহরমপুর থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সেই নির্দেশ মেনেই এদিন থানায় হাজির হন AJUP চেয়ারম্যান। থানায় যাওয়ার আগে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তাঁকে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করার কথাও জানান তিনি। ভাইরাল অডিও নিয়ে তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনও অশান্তির পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত নন এবং বিষয়টির পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে তাঁর দাবি।
অডিও-কাণ্ডকে ঘিরে ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করেছে। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানে AJUP-এর প্রার্থী হয়েছেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ।
এখন বহরমপুর থানায় জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ কী তথ্য পায় এবং ভাইরাল অডিও নিয়ে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।