মন্দারমণিতে সমুদ্রস্নানে নেমে তলিয়ে গেলেন দম্পতি, মৃত্যু বালকের; নিখোঁজ দু’জনের খোঁজে তল্লাশি
**মন্দারমণি:** সমুদ্রস্নানে নেমে ভয়াবহ দুর্ঘটনা মন্দারমণিতে। উত্তাল সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন নদিয়া জেলার এক দম্পতি। একই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বছর দশেকের এক বালকের। কর্তব্যরত নুলিয়ারা তৎপরতার সঙ্গে বালকটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় বড়রাঙ্কুয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত বালকের নাম **সোমনাথ হালদার**। বয়স আনুমানিক ১০ বছর। তিনি নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অন্যদিকে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন নদিয়ার শান্তিপুর থানার বাগদেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা **সুমন শীল ও বৃষ্টি শীল**। জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন সুমন। তাঁর শ্বশুর দিঘার একটি হোটেলে কাজ করেন। সেই সূত্রে দিল্লি থেকে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে দিঘা যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ওই দম্পতি।
জানা গিয়েছে, সমুদ্রস্নানের সময় আচমকাই উত্তাল হয়ে ওঠে সমুদ্র। সেই সময় টাল সামলাতে না পেরে ভেসে যায় বালক সোমনাথ। একইভাবে সমুদ্রের জলে তলিয়ে যান ওই দম্পতিও। বিষয়টি নজরে আসতেই কর্তব্যরত নুলিয়ারা দ্রুত সমুদ্রে নেমে বালকটিকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
অন্যদিকে নিখোঁজ দম্পতির সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে। সমুদ্র ও সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পরপর সমুদ্রে তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় সৈকতজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৈকত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মন্দারমণি-সহ জেলার বিভিন্ন সৈকতে আরও **৯০ জন নুলিয়া** নিয়োগ করা হবে। তাঁদের মাধ্যমে পর্যটকদের সমুদ্রস্নানের সময় নজরদারি ও বিপদে দ্রুত উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ফের একবার পর্যটকদের সমুদ্রস্নানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে উত্তাল সমুদ্র এবং নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা এলাকায় যাতে কেউ জলে না নামেন, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।