অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় মেলেনি পরিষেবা, পথেই সন্তান প্রসব প্রসূতির
**কাঁকসা:** জরুরি সময়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ। বারবার ফোন করেও অ্যাম্বুলেন্স না মেলায় শেষ পর্যন্ত বেসরকারি গাড়ি ভাড়া করে হাসপাতালে রওনা দেন এক প্রসূতি। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন তিনি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার ত্রিলোকচন্দ্রপুর এলাকায়।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসূতি মায়েদের বিনামূল্যে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু রয়েছে। ত্রিলোকচন্দ্রপুরের বাসিন্দা আকাশ বাগদীর স্ত্রীর শুক্রবার ভোরে প্রসব বেদনা ওঠে। এরপর পরিবারের তরফে সরকারি কার্ডে দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ফোন করা সত্ত্বেও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা মেলেনি। এমনকি ‘বিশ্বকর্মা পুজো’র কারণে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, অন্তত এক হাজার টাকা না দিলে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে না বলেও চালকদের তরফে জানানো হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন প্রসূতির স্বামী। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মাঝরাস্তায় ওই মহিলা সন্তান প্রসব করেন।
এরপর মা ও নবজাতককে দ্রুত পানাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের ভর্তি নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রসূতির স্বামী আকাশ বাগদী। তাঁর অভিযোগ, সরকারি কার্ডে থাকা নম্বরে বারবার ফোন করেও কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি। পুজো এবং টাকার অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের ঘোরানো হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অন্যদিকে, হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে মা ও নবজাতক দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন। পানাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ড. রথীন মুখার্জি জানান, রাস্তায় প্রসবের খবর পাওয়ার পরই মা ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হয়। বর্তমানে দু’জনেই বিপদমুক্ত।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে ওঠা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা কেন মেলেনি, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।