পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ, থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ স্বামীর
**হরদই:** স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশের হরদইয়ে। ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম নাগমা (২৭)। অভিযুক্ত স্বামীর নাম পারভেজ় (৩৪)। বুধবার ভোরে ইসলামনগর তিলিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছিল। পারভেজ়ের সন্দেহ ছিল, তাঁর স্ত্রী অন্য এক পুরুষের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখছেন। এই বিষয়টি নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত বলেও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ, ঘটনার দিন ভোরে নাগমা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর উপর হামলা চালান পারভেজ়। গুরুতরভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর অভিযুক্ত হেঁটে থানায় পৌঁছে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
অভিযুক্তের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকে নাগমার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
https://twitter.com/i/status/2100279079215956004
এদিকে, মৃতার পরিবারের তরফেও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। নাগমার বোনের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর দিদিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মৃতার বোন।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ঘটনার প্রায় দেড় মাস আগে পারভেজ় তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন। সেই বাড়িতেই শেষ পর্যন্ত এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিকে, স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে। সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিয়ো ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগের সত্যতা এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। আপাতত অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ ও পারিবারিক বিরোধের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।