নিঝুম রাতে প্রসূতিকে উদ্ধার, বন্যার জলে নৌকা নিয়ে ছুটল ভুতনী থানার পুলিশ
**মালদা:** চারদিকে থইথই জল। বিদ্যুৎহীন গোটা এলাকা। ঘন অন্ধকারের মধ্যে বন্যার জলের প্রবল স্রোত। যোগাযোগের সমস্ত পথ কার্যত বিচ্ছিন্ন। এমন পরিস্থিতিতেই মাঝরাতে প্রসবযন্ত্রণায় কাতর এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে মানবিকতার নজির গড়ল মালদার ভুতনী থানার পুলিশ।
ঘটনাটি গভীর রাতের। আনুমানিক রাত ১২টা নাগাদ বন্যাকবলিত প্রত্যন্ত এলাকায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার আচমকাই তীব্র প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। কিন্তু চারপাশে জল জমে থাকায় স্থলপথে কোনও যানবাহন চলাচলের উপায় ছিল না। এমনকী অ্যাম্বুল্যান্স বা কোনও পেশাদার উদ্ধারকারী দলও সেখানে পৌঁছনো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
চরম অসহায় অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা ভুতনী থানায় ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। প্রসূতির অবস্থার কথা জানতে পেরেই দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন থানার ডিউটি অফিসার। সময় নষ্ট না করে রাতের অন্ধকারেই একটি উদ্ধারকারী নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশের একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চারদিক অন্ধকার থাকায় টর্চের আলোকে ভরসা করেই বিপদসংকুল জলপথ পাড়ি দিতে হয় পুলিশকর্মীদের। প্রবল স্রোতের মধ্যে দিয়ে নৌকা চালিয়ে অবশেষে ওই মহিলার বাড়িতে পৌঁছন তাঁরা।
এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রসবযন্ত্রণায় কাতর মহিলাকে নৌকায় তুলে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে নিয়ে অন্ধকার জলপথ পাড়ি দিয়ে তাঁকে নিকটস্থ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যখন প্রত্যন্ত এলাকার বহু মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, সেই সময়ে পুলিশের এই তৎপরতা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিপদের সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভুতনী থানার পুলিশ যে মানবিক ভূমিকা পালন করেছে, এই ঘটনা তারই নজির বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বন্যার জলে বিচ্ছিন্ন এলাকায় জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন ও পুলিশের এই ধরনের উদ্যোগ দুর্গত মানুষের মনে কিছুটা হলেও ভরসা জোগাচ্ছে।