গঙ্গার জলে প্লাবিত ভূতনি, নৌকায় করে বানভাসিদের চিকিৎসা স্বাস্থ্য দপ্তরের
**মালদহ:** গঙ্গা নদীর জল বাড়তে থাকায় মালদহের ভূতনি থানার অন্তর্গত তিনটি অঞ্চলের প্রায় সমস্ত গ্রামই প্লাবিত। জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ। বন্যার জলে ডুবে গিয়েছে থানা, বিদ্যালয় থেকে শুরু করে হাসপাতালও। এমন পরিস্থিতিতে জলবন্দি মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে নৌকায় করে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা।
উত্তর চন্ডিপুর এলাকার বিভিন্ন জলবন্দি গ্রামে নৌকায় করে পৌঁছে বানভাসি মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অভিক শংকর কুমার এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা। নৌকার উপরেই রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন জলবন্দি থাকার কারণে বানভাসি মানুষের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি-সহ বিভিন্ন অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি বন্যার পর জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই জলবন্দি এলাকাগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানোর পাশাপাশি নৌকায় করে চিকিৎসা পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিন উত্তর চন্ডিপুরের বিভিন্ন জলবন্দি এলাকায় শতাধিক পরিবার ও মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধপত্র দেওয়ার পাশাপাশি বন্যার সময় কীভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা যায়, পানীয় জল ও খাবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, সে বিষয়েও বানভাসি মানুষদের সচেতন করা হয়।
মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অভিক শংকর কুমার জানান, জলবন্দি মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যতম লক্ষ্য। কারও কোনও স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা হয়েছে কি না, তা জানতে নৌকার মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই চিকিৎসকদের নিয়ে ভূতনির বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ইতিমধ্যেই আড়াইশোর বেশি গর্ভবতী মহিলাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যার কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি-সহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে কি না, তার উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বন্যার জলে চারদিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও চিকিৎসা পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যেই নৌকাকে কার্যত ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে স্বাস্থ্য দপ্তর।