জুয়ার ঠেকে পুলিশ দেখেই পরপর বোমা! আক্রান্ত এএসআই-সহ একাধিক পুলিশকর্মী, উত্তেজনা সালারে
**মুর্শিদাবাদ:** জুয়ার ঠেকে হানা দিতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ। মুর্শিদাবাদের সালার থানার খারেরা গ্রামে পুলিশকে লক্ষ্য করে পরপর বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন সালার থানার এএসআই সাদেক আলি-সহ বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খারেরা গ্রামে নিয়মিত জুয়ার আসর বসার খবর পেয়েছিল সালার থানার পুলিশ। সেই গোপন সূত্রের ভিত্তিতেই রবিবার গভীর রাতে এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন এএসআই সাদেক আলি।
অভিযোগ, পুলিশবাহিনী জুয়ার ঠেকের কাছে পৌঁছতেই তাঁদের লক্ষ্য করে বোমাবাজি শুরু হয়। পরপর কয়েকটি বোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিকট বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। বোমার আঘাতে এএসআই সাদেক আলি-সহ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। এরপর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর পেয়ে সালার থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আহত পুলিশকর্মীদের উদ্ধার করে প্রথমে সালার গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এএসআই সাদেক আলির আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার পর থেকেই খারেরা গ্রামে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সোমবার সকালেও এলাকার পরিস্থিতি থমথমে ছিল। নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য গ্রামে পুলিশবাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তবে সন্দেহজনক কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। জুয়ার আসরে কারা উপস্থিত ছিল, কারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়েছিল এবং কোথা থেকে বোমা আনা হয়েছিল—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে সালার থানার পুলিশ।