বৃষ্টি মাথায় করে ত্রিপল টাঙিয়ে ক্লাস! জলে-কাদায় নাজেহাল পড়ুয়ারা, বৃষ্টিতে ভিজেই ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক
**নিজস্ব প্রতিনিধি, পাঁশকুড়া:** একদিকে সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি, অন্যদিকে মাথার উপর নেই পাকা ছাদ। বাধ্য হয়ে ত্রিপল টাঙিয়ে চলছে স্কুলের ক্লাস। বৃষ্টির জল থেকে পড়ুয়াদের কিছুটা আড়াল করতে গিয়ে নিজেরাই ভিজে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এমনই করুণ ছবি ধরা পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার বাহারপোতা এক নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
প্রায় **১১৫ বছরের পুরনো এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়** বর্তমানে চরম সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গত শনিবার স্কুলের ভবনের প্রায় ৭০ শতাংশ ভেঙে ফেলতে হয়েছে। এর ফলে পড়াশোনার পরিকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের জন্য জায়গাটি দীর্ঘদিন আগে পড়াশোনার কাজে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১০০ বছর পর ওই জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা **অসিতকুমার মান্না** দাবি তোলেন বলে অভিযোগ। এরপর স্কুলের জায়গা ফেরতের দাবিতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশের পরই স্কুল ভবনের একটি বড় অংশ ভাঙতে হয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি।
ভেঙে দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের ব্যবহারের **বাথরুম এবং পানীয় জলের সাবমারসিবল পাম্পও**। ফলে প্রায় **১৩০ জন ছাত্রছাত্রী** বর্তমানে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছে।
বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। পাকা শ্রেণিকক্ষের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ত্রিপল টাঙিয়ে কোনওরকমে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। জলে-কাদায় দাঁড়িয়ে কিংবা বসে ক্লাস করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। অনেক সময় বৃষ্টির জল থেকে বাঁচতে না পেরে শিক্ষক ও পড়ুয়া—উভয়কেই ভিজতে হচ্ছে।
শিক্ষকদের কথায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর। পড়ুয়াদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, সেই কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এভাবে কতদিন স্কুল চালানো সম্ভব, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের মধ্যে।
শুধু ক্লাস নয়, **মিড ডে মিলের রান্না নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন কর্মীরা**। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় রান্নার কাজ করতেও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে, পড়ুয়াদের পানীয় জলের ব্যবস্থাও কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দূর থেকে জল বয়ে এনে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এই অবস্থায় দ্রুত স্কুলের বিকল্প পরিকাঠামো তৈরি এবং পড়ুয়াদের নিরাপদে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। আগামী দিনে কীভাবে প্রায় ১৩০ জন পড়ুয়ার পঠনপাঠন স্বাভাবিক রাখা যাবে, তা নিয়েই চিন্তিত স্কুল কর্তৃপক্ষ।