বর্ষার জলে চারদিক প্লাবিত, বাগনানে মাটির বাড়ি থেকে উদ্ধার বিরল সাদা কালাচ সাপ
**হাওড়া:** বর্ষার মরশুমে চারদিকে জলমগ্ন পরিস্থিতির মধ্যেই হাওড়ার বাগনানে মাটির বাড়ি থেকে উদ্ধার হল বিরল সাদা রঙের কালাচ সাপ। অত্যন্ত বিষধর এই সাপকে ঘরের মেঝেতে দেখতে পাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পরিবারের মধ্যে। পরে সর্প উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় নিরাপদে উদ্ধার করা হয় সাপটিকে।
ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার বাগনান ২ নম্বর ব্লকের বাঁটুল গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে নিজের মাটির বাড়িতে সাদা রঙের একটি সাপ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব প্রামাণিক। ঘরের মেঝেতে সাপটি দেখতে পেয়ে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
এরপর তৎক্ষণাৎ ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্টের সদস্য সবুজ দোলুইকে খবর দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে নিরাপদে আটকে রাখেন এবং ট্রাস্টের সর্প উদ্ধারকারী সদস্যদের খবর দেন। বিরল সাদা সাপ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেটিকে দেখতে বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ট্রাস্টের সদস্য চিত্রক প্রামাণিক, সুমন্ত দাস এবং অর্ঘ্য মল্লিক। সাপটিকে দেখে তাঁরা জানান, এটি সাধারণ কালাচ নয়, বরং একটি **লিউসিস্টিক কালাচ সাপ**, অর্থাৎ বিরল সাদা কালাচ।
এরপর চিত্রক, সুমন্ত, অর্ঘ্য ও সবুজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে উদ্ধার করে জারে বন্দি করেন। পাশাপাশি সঞ্জীব প্রামাণিকের মাটির বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়, যাতে সেখানে আরও কোনও বিষধর সাপ লুকিয়ে রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।
ট্রাস্টের সদস্য চিত্রক প্রামাণিক জানান, কালাচ পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের অন্যতম তীব্র বিষধর সাপ। তবে সাদা কালাচ সচরাচর দেখা যায় না। তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া সাপটি একটি লিউসিস্টিক কালাচ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, **লিউসিজম একটি জেনেটিক মিউটেশন**, যার কারণে প্রাণীর শরীরের ত্বক বা অন্যান্য বাহ্যিক অংশে রঞ্জকের ঘাটতি দেখা যায় এবং প্রাণীটি সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের হয়ে যেতে পারে। লিউসিজমের ক্ষেত্রে সাধারণত চোখের রং স্বাভাবিক থাকে। অন্যদিকে অ্যালবিনিজমের ক্ষেত্রে চোখের রঙেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
ট্রাস্টের সদস্যদের দাবি, এর আগেও হাওড়া জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সাদা কালাচ সাপ উদ্ধারের নজির রয়েছে। তবে এমন বিরল সাপ দেখতে পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সাপ উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেন ট্রাস্টের সদস্যরা। বর্ষাকালে জল জমে যাওয়ায় সাপের আনাগোনা বাড়তে পারে বলে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়। সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত প্রশিক্ষিত সর্প উদ্ধারকারী বা বনদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করার বার্তাও দেওয়া হয়।
বর্ষার মরশুমে সাপের উপদ্রব বাড়ায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখা এবং রাতে চলাফেরার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।