অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় বড় পদক্ষেপ, রাজ্যের দমকল বহরে যুক্ত ২২৬টি অত্যাধুনিক গাড়ি
**কলকাতা:** অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবাকে আরও আধুনিক এবং শক্তিশালী করতে রাজ্যের দমকল বহরে যুক্ত হল ২২৬টি নতুন অত্যাধুনিক গাড়ি। বুধবার কলকাতার রেড রোডে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন গাড়িগুলির উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে মঙ্গলবার নতুন গাড়িগুলিকে নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় মহড়াও হয়।
নতুন বহরে রয়েছে **১৯৮টি মিড সাইজ ওয়াটার টেন্ডার**, প্রতিটির জলধারণ ক্ষমতা ২.৫ কিলোলিটার। এছাড়াও রয়েছে **২৫টি ৬ কিলোলিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার টেন্ডার** এবং **৩টি আর্টিকুলেটিং ওয়াটার টাওয়ার**। এই ওয়াটার টাওয়ারগুলি প্রায় ৩৬ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত জল পৌঁছে দিতে সক্ষম।
নতুন গাড়িগুলি রাজ্যের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনে মোতায়েন করা হবে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাজার, শিল্পাঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর ও আধা-শহর এলাকায় দ্রুত আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজে এগুলি ব্যবহার করা হবে।
দমকল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। ভবিষ্যতে **ফায়ার ফাইটিং রোবট, ড্রোন, হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম এবং অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা** যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এর আগে এমন রোবোটিক ফায়ার-ফাইটিং ব্যবস্থার কথা জানিয়েছিলেন, যা এমন জায়গায় পৌঁছতে পারবে যেখানে বড় দমকলের গাড়ি পৌঁছনো কঠিন।
শুধু নতুন গাড়ি নয়, দমকলের পরিকাঠামো ও কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যে একাধিক নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন কর্মী নিয়োগ এবং অতিরিক্ত পদ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
দমকলকর্মীদের জন্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। স্থায়ী প্রথম সারির কর্মীদের জন্য বছরে ২৬ দিনের বেতনের সমতুল্য ভাতা এবং চুক্তিভিত্তিক অক্সিলিয়ারি ফায়ার অপারেটরদের জন্য মাসে অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা ভাতার কথা জানানো হয়েছে। কলকাতায় দমকলকর্মীদের জন্য আধুনিক ব্যারাক ও আবাসন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে লক্ষ্য শুধু আগুন নেভানো নয়। নিয়মিত **ফায়ার সেফটি অডিট, পরিদর্শন, মহড়া এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়ানোর** উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত, দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর দমকল পরিষেবা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। রাজ্যের বাজেটেও দমকলের সরঞ্জাম, যানবাহন, ফায়ার স্টেশন নির্মাণ এবং আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।