মালদায় সরকারি ত্রিপল বিলিতে টাকার দাবির অভিযোগ, নির্দল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর বিরুদ্ধে সরব রাজনৈতিক মহল
**মালদা:** গঙ্গাভাঙন কবলিত মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রিপল বিলির ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক নির্দল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানিকচকের ভূতনির হিরানন্দপুর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি এই সংবাদমাধ্যম।
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী নিমাই মাহাতোর কাছ থেকে ত্রিপল সংগ্রহ করছেন। অভিযোগ, ত্রিপল দেওয়ার আগে তাঁদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। ভিডিয়োয় আরও দেখা যায়, ত্রিপল নেওয়া ব্যক্তিদের নাম একটি খাতায় নথিভুক্ত করা হচ্ছে। যদিও সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিলির ক্ষেত্রে আদৌ টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই মানিকচকে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির মানিকচক বিধানসভার বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল অভিযোগের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল আমলে পঞ্চায়েত সদস্য থেকে প্রধান—বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও লুটরাজ হয়েছে। সরকারি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কোনওরকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
গৌড়চন্দ্র মণ্ডলের দাবি, **“এটা জনগণের সরকার। যারা কাটমানির সঙ্গে জড়িত থাকবে, তারা জেলে যাবে।”** সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটি তিনি দেখেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলেও জানান বিজেপি বিধায়ক।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি ত্রিপল মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিলি করার পরিবর্তে টাকা নিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে **ত্রিপল বিলির সময় সত্যিই টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, ভাইরাল ভিডিয়োয় যাঁদের দেখা যাচ্ছে তাঁদের বক্তব্য কী এবং সরকারি নিয়ম মেনে ত্রাণসামগ্রী বিলি করা হয়েছিল কি না—তা প্রশাসনিক তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।** অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী নিমাই মাহাতোর প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানিকচকের ভূতনি এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন এই অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।