গঙ্গার জল বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপরে, মানিকচকে জলবন্দি ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ
**মালদা:** ফের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদার মানিকচক ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিশেষ করে উত্তরচণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং গঙ্গার বুকে গড়ে ওঠা শতাধিক বছরের পুরনো ভুতনি চরের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত জলবন্দি। ক্রমাগত বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর। জলমগ্ন হয়েছে চাষের জমি থেকে শুরু করে একাধিক বসতবাড়ি। সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে গঙ্গার জলস্তর চরম বিপদসীমার প্রায় **৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে**। এর মধ্যেই মানিকচকের কেশরপুর এলাকায় নদীবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হু হু করে জল ঢুকে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। ফলে দুর্লভোলা, ভুবনটোলা, কেদারটোলা, মানিকনগর-সহ **৩০টিরও বেশি গ্রাম** জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বন্যার জেরে **প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ জলবন্দি** হয়ে পড়েছেন। বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই **সাতটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে**। দুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল।
তবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে গঙ্গার জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই এখনও নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে নারাজ। ফলে জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও বেগতিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যার মধ্যে ত্রাণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেশ কিছু স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, সব জায়গায় এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছচ্ছে না। দুর্গত এলাকায় খাবার, পানীয় জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মানিকচকেই রয়েছেন রাজ্যের দুই প্রতিমন্ত্রী। তাঁরা এলাকায় থেকেই বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন মানিকচকের বিধায়ক **গৌড় চন্দ্র মণ্ডল**। প্রশাসনের তরফে দুর্গতদের উদ্ধার এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে গঙ্গার জলস্তর যেভাবে বাড়ছে, তাতে মানিকচকের ভুতনি ও উত্তরচণ্ডীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।