শিলিগুড়িতে চায়ের আড্ডায় দিলীপ ঘোষের নিশানায় বিরোধীরা, “নিজেদের ভূমিকা পালন করতে পারছে না”
**শিলিগুড়ি:** উত্তরবঙ্গ সফরে এসে শিলিগুড়িতে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রাতঃভ্রমণে যোগ দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শিলিগুড়ি কলেজের মাঠে এদিন বেশ খোশমেজাজেই দেখা যায় তাঁকে। প্রাতঃভ্রমণের পর চায়ের আড্ডায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে বিরোধীদের নিশানা করেন তিনি।
এদিন মূলত বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের যে দায়িত্ব রয়েছে, তা তারা ঠিকভাবে পালন করতে না পারলে তার দায় জনগণ বা সরকারের নয়। বিরোধী দলগুলির নিজেদের মধ্যে লড়াই এবং মতবিরোধ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, বিরোধীরা যদি নিজেদের মধ্যেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার দায়ও তাদের নিজেদেরই নিতে হবে। তাঁর মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিন যাদবপুরে বিজেপির পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। দিলীপ ঘোষের দাবি, বিজেপির কাছে বর্তমানে পার্টি অফিস ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জড়ানোর সময় নেই। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি এখন প্রশাসন পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার কাজে ব্যস্ত। যাঁদের হাতে কোনও কাজ নেই, তাঁরাই এই ধরনের ঘটনায় জড়াচ্ছেন বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভিন্ন দলের কর্মসূচি নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে যাদবপুরের পরিস্থিতি নিয়ে দিলীপ ঘোষ প্রকাশ্যেই একাধিক মন্তব্য করেছিলেন।
পুনর্নির্বাচন নিয়েও এদিন প্রশ্নের মুখে পড়েন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মানুষ যে দিকে ভোট দিচ্ছেন, ফলাফলও সেই দিকেই যাচ্ছে। ভোটের ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে প্রশ্ন উঠছে, তার প্রেক্ষিতে মানুষের রায়কে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাই দেন তিনি।
উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা এবং ৯ অক্টোবর ভোটগণনা নির্ধারিত রয়েছে। এই নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোরদার রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিলিগুড়িতে প্রাতঃভ্রমণ ও চায়ের আড্ডার ফাঁকেই একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন দিলীপ ঘোষ। বিরোধীদের ভূমিকা, যাদবপুরের ঘটনা এবং আসন্ন উপনির্বাচন—সবকটি বিষয়েই তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।