স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয়, বিধানসভায় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
কলকাতা: রাজ্যে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না বলে বিধানসভায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বাজেটের জবাবি ভাষণে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের উপর জোর করে স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিও বাধ্যতামূলক নয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে ভারত সরকার ডোমেস্টিক বা গৃহস্থালি ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার স্থাপনকে বাধ্যতামূলক করেনি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “মানুষের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে সরকার কাজ করে। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি না করে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না।”
স্মার্ট মিটারের বিরোধিতায় বামপন্থী দল ও এসইউসিআইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, “এখন আর মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয়, এই ঘোষণার পর অনেকের আন্দোলনের ভিত্তিই নড়ে যাবে।”
এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ‘যাদবপুর পার্টি’ বলে উল্লেখ করে বামপন্থীদেরও সতর্কবার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাদবপুর পার্টি একটু সাবধান থাকুন। আমি সবকিছু লক্ষ্য রাখছি। এটা দুর্বল সরকার নয়, শক্তিশালী সরকার।”
শুধু স্মার্ট মিটার নয়, কৃষকদের জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘পিএম কুসুম’ প্রকল্পের আওতায় সেচের কাজে সৌরশক্তি ব্যবহারে কৃষকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত ২ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। এর ফলে কৃষি ক্ষেত্রে নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও ডিভিসি-পাঞ্চেৎ এলাকায় ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পাওয়ার স্টোরেজ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বীরভূমের বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নতুন ইউনিট স্থাপনের কাজও শুরু হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ প্রকল্পে রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তর অংশগ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলিকে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা, কৃষি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে স্মার্ট মিটার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।