তীব্র গঙ্গাভাঙনের মুখে মানিকচকের ঐতিহ্যবাহী কামাল্তিপুর জামে মসজিদ, অস্তিত্ব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
**মালদহ:** তীব্র নদীভাঙনের সংকটের মুখে পড়েছে মালদহের মানিকচকের কামাল্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী ও ভাইরাল জামে মসজিদ। সোমবার সকাল থেকেই বিধ্বংসী গঙ্গাভাঙন শুরু হওয়ায় চোখের পলকে বিঘার পর বিঘা জমি, গাছপালা এবং একাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে বড় বড় বাঁশঝাড়-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মাটি গঙ্গার গর্ভে চলে যায়। ভাঙনের আতঙ্কে ইতিমধ্যেই **১০টিরও বেশি পরিবার** নিজেদের বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কামাল্তিপুর জামে মসজিদকে ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, মসজিদের পশ্চিম, দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকেও গঙ্গার ভাঙন পৌঁছে গিয়েছে। ফলে যে কোনও মুহূর্তে মসজিদটির অস্তিত্বও বিপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
উপগ্রহচিত্রে মসজিদটির বর্তমান অবস্থান দেখলে মনে হচ্ছে, সেটি যেন নদীর বুকের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই দৃশ্যের সঙ্গে অনেকেই মহারাষ্ট্রের হাজি আলি দরগার কথাও তুলনা করছেন। গত বছর এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। কিন্তু এ বছর ভয়াবহ নদীভাঙনের জেরে সেই মসজিদই এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে।
এদিকে ভাঙনের দৃশ্য দেখতে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ফের মানুষের ভিড় বাড়ছে। শিশু থেকে শুরু করে বহু মানুষ বিপজ্জনকভাবে নদীর ধারের একেবারে কাছে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে ভিড় বাড়তে থাকলে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ভাঙনকবলিত পরিবারগুলির অভিযোগ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্যত্র জমি ও ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা তাঁরা পাননি।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য এবং প্রাক্তন সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, গত বছর সংশ্লিষ্ট দফতর এই জামে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই উদ্যোগের ফলেই গত বছর মসজিদটি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনের ভয়াবহ ভাঙনে এবার মসজিদটির অস্তিত্ব নিয়েই তাঁরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
আইয়ুব আলীর দাবি, মসজিদটি স্থানীয় মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। তাই মানিকচকের বিধায়ক গৌর চন্দ্র মণ্ডলের কাছে তাঁর আবেদন, **জরুরি ভিত্তিতে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করা হোক।**
এখন দেখার, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী কামাল্তিপুর জামে মসজিদকে গঙ্গার গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয় কি না।