২৯ জুলাই ২০২৬
বাংলার খবর, বিশ্বের নজরে
তাজা খবর
নীল ব্রালেট লুকে ভাইরাল ত্রিধা চৌধুরী, মুগ্ধ অনুরাগীরা হাওড়ায় চলন্ত বাসে তাণ্ডব, যাত্রীদের প্রতিরোধে ধরা দুষ্কৃতী রাজ্য পুলিশে ১ লক্ষ নিয়োগের ঘোষণা, রেশন ভাতা বৃদ্ধি, ভবানী ভবন থেকে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত বৃষ্টিতে ভেস্তে যাচ্ছে সমুদ্র-ছুটি, হোটেলবন্দি দিঘার পর্যটকেরা, কবে কাটবে অপেক্ষা? মেদিনীপুরে বুলডোজার অভিযান, ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙল প্রশাসন
আন্তর্জাতিক

৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে মোদী, কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা

লিখেছেন Bengal News Net ৮৮ বার পঠিত ৪ মিনিটের পড়া
৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে মোদী, কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা

চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী: মোদী-লাক্সন বৈঠকে ১৮টি সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক পৌঁছল ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’


অকল্যান্ডে মোদী-লাক্সন বৈঠকে ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত। ঘোষণা ‘রোডম্যাপ ২০৩০’, ১৮টি সিদ্ধান্ত ও বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা।


দীর্ঘ ৪০ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হল। শনিবার অকল্যান্ডের গভর্নমেন্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের বৈঠকে ঘোষিত হয় ‘রোডম্যাপ ২০৩০’— বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসদমন, কৃষি ও শিক্ষা নিয়ে একটি সামগ্রিক রূপরেখা। বৈঠক থেকে মোট ১৮টি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি চুক্তি ও সমঝোতাপত্র এবং ৮টি নীতিগত ঘোষণা।


মোদী অকল্যান্ডে পৌঁছন শুক্রবার রাতে। শনিবার সকালে গভর্নমেন্ট হাউসে ঐতিহ্যবাহী মাওরি ‘পোহিরি’ রীতিতে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের তরফে রাখা ‘ওয়েরো’ (আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ) গ্রহণ করে লাক্সনের সঙ্গে গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর শুরু হয় প্রতিনিধি-স্তরের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

বৈঠকের প্রধান সিদ্ধান্ত— ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৭০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলারে (প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা) নিয়ে যাওয়া। চলতি বছরের এপ্রিলে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) উপর ভিত্তি করেই এই লক্ষ্যমাত্রা।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশ একটি বার্ষিক ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি ডায়লগ’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিউজিল্যান্ড যোগ দিচ্ছে ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভ (আইপিওআই)-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা স্তম্ভে। স্বাক্ষরিত হয়েছে সামুদ্রিক সহযোগিতা চুক্তি, হাইড্রোগ্রাফি ও নটিক্যাল কার্টোগ্রাফি সংক্রান্ত সমঝোতা এবং একটি পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তি— যার আওতায় প্রয়োজনে দুই দেশের বাহিনী একে অপরের ঘাঁটি ও পরিকাঠামো জ্বালানি ভরা, মেরামতি ও রসদ সরবরাহের জন্য ব্যবহার করতে পারবে।


সন্ত্রাসদমনে গঠিত হচ্ছে একটি যৌথ কর্মিগোষ্ঠী, যার মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) ও নিউজিল্যান্ডের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তবে এফটিএ-র একটি শর্ত নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ফারাক ধরা পড়েছে। ভারতে বেসরকারি বিনিয়োগ ‘প্রচারে’ নিউজিল্যান্ড সরকারের ভূমিকা সংক্রান্ত ওই শর্তকে মোদী ভাষণে ‘অঙ্গীকার’ বলে উল্লেখ করেন এবং ১৫ বছরে ২০০০ কোটি মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের কথা বলেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম আরএনজেড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাক্সন এই ব্যাখ্যা এড়িয়ে গিয়ে জানিয়েছেন, ওই রোডম্যাপে কোনও আর্থিক প্রতিশ্রুতি নেই এবং তা আইনত বাধ্যতামূলক কোনও দায়ও তৈরি করে না।

শনিবার বিকেলে অকল্যান্ডের স্পার্ক অ্যারেনায় প্রবাসী ভারতীয়দের সমাবেশে ভাষণ দেন মোদী। সেখানে তিনি বলেন, “কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ডে আসতে ৪০ বছর সময় লেগে গেল। এবার আর ৪০ বছর সময় লাগবে না, এটা মোদির গ্যারান্টি।” মাওরি শব্দ ‘ওয়াকা’-র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি শুধু নৌকা নয়, একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রতীক।


সভাস্থলের বাইরে অবশ্য বিক্ষোভও হয়। আরএনজেড জানিয়েছে, পুলিশি ব্যারিকেডের দু’দিকে মুখোমুখি হন মোদী-সমর্থক ও বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন অভিবাসন-বিরোধী গোষ্ঠীর সদস্য এবং জনা বারো খালিস্তানপন্থী। বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লাক্সন জানান, তিনি কোনও বিক্ষোভকারী দেখেননি এবং উদ্বিগ্নও নন।


উল্লেখযোগ্যভাবে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না নিউজিল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স— তিনি তখন সিঙ্গাপুর ও জাপান সফরে। ভারতের তরফে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি।


১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধীর সফরের পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে গেলেন। সাম্প্রতিক গতি এসেছে ২০২৫ সালের মার্চে লাক্সনের ভারত সফরের পর, যখন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হয় এবং প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, শুল্ক, উদ্যানপালন ও ক্রীড়া নিয়ে একগুচ্ছ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়।


চলতি বছরের এপ্রিলে সই হওয়া এফটিএ অনুযায়ী, সম্পূর্ণ কার্যকর হলে ভারতে নিউজিল্যান্ডের ৯৫ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের উপর শুল্ক কমবে বা উঠে যাবে; প্রথম দিন থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৫৭ শতাংশ পণ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার, আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি।


নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত— ভারত সরকারের হিসেবে সংখ্যাটি প্রায় ৩ লক্ষ। নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডে নির্বাচন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এফটিএ ও এই সফরকে লাক্সন তাঁর বিদেশনীতির বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন, যদিও তা ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সম্পর্কিত খবর