৩৯ মাস ধরে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম, অপেক্ষায় রেহেনা বিবি! মুর্শিদাবাদের লালগোলায় চাঞ্চল্য
**নিজস্ব সংবাদদাতা | মুর্শিদাবাদ**
সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ফের বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ। মুর্শিদাবাদের লালগোলা ব্লকের পণ্ডিতপুর বাগানপাড়া এলাকায় এক বিধবা মহিলার প্রাপ্য ভাতা দীর্ঘদিন ধরে অন্য এক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বছর পাঁচেক আগে স্বামীর মৃত্যু হয় স্থানীয় বাসিন্দা **রেহেনা বিবির**। পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং কোনও উপার্জনের সুযোগ নেই। সরকারি বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করার পর তাঁর নামে ভাতা অনুমোদিত হলেও সেই অর্থ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি।
পরিবারের অভিযোগ, গত **৩৯ মাস ধরে** ওই ভাতার অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা **জাহাঙ্গীর আলম** নামে এক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। ২০২৪ সালে বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা বিডিও অফিস, প্রশাসন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রকৃত উপভোক্তা যখন আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তখন অন্য একজনের অ্যাকাউন্টে মাসের পর মাস সরকারি ভাতার টাকা চলে যাওয়া প্রশাসনিক গাফিলতি নাকি অন্য কোনও অনিয়ম—তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
এলাকার বাসিন্দা **মুসাদুকুর আলম** জানান, প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। এরপর একাধিকবার বিডিও অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও সমাধান হয়নি। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়, এমনকি সালিশি বৈঠকের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত কিছুর পরও সমস্যার কোনও নিষ্পত্তি হয়নি বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে **জাহাঙ্গীর আলমের** সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
এখন স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত উপভোক্তার হাতে সরকারি ভাতার অর্থ পৌঁছে দিক এবং কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম চলল, তারও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।