মুর্শিদাবাদ রেল দুর্ঘটনা: ‘সিগন্যাল লাল ছিল, ডাউন লাইনে ট্রেন আসার খবর পাইনি’ — দাবি ধৃত গেটম্যানের
**মুর্শিদাবাদ:** মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনাকে ঘিরে নতুন মোড়। ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া রেলগেটের গেটম্যান অনুপ কর্মকার হাসপাতালের বেড থেকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ডাউন লাইনে ট্রেন আসার বিষয়ে তাঁকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সিগন্যালও লাল ছিল।
শুক্রবার সকালে কর্ণসুবর্ণ-গোবিন্দপুর রেলগেট পার হওয়ার সময় একটি স্কুলভ্যান প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে যায়। দুর্ঘটনায় চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। পাশাপাশি প্রাণ হারান এক সাইকেল আরোহী। আহত হন আরও কয়েকজন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কে, তা নিয়ে শুরু হয় জোর বিতর্ক।
## গেটম্যানের দাবি কী?
গ্রেফতারের পর বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনুপ কর্মকার জানিয়েছেন, প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী আপ ও ডাউন লাইনের ট্রেন চলাচলের তথ্য তাঁর কাছে থাকে। তাঁর দাবি, আপ লাইনের নবদ্বীপ এক্সপ্রেস ছাড়ার আগে স্টেশন মাস্টার ফোন করে খবর দিয়েছিলেন, যার ভিত্তিতে তিনি গেট বন্ধ করেছিলেন।
অনুপের অভিযোগ, ডাউন লাইনে যে প্যাসেঞ্জার ট্রেন আসছিল, সে বিষয়ে কোনও ফোন বা বার্তা তাঁকে দেওয়া হয়নি।
তাঁর কথায়,
“আপ লাইনের ট্রেন চলে যাওয়ার পর দেখলাম ডাউন লাইনের সিগন্যাল লাল রয়েছে। তাই মনে হয়েছিল ট্রেন এখনও স্টেশন থেকে ছাড়েনি। হাতে কিছুটা সময় আছে ভেবেই গেট খুলে দিই।”
## কেন খোলা হয়েছিল রেলগেট?
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সাধারণত আপ ও ডাউন লাইনের ট্রেন পরপর পার হওয়ার সময় গেট বন্ধই রাখা হয়। কিন্তু শুক্রবার আপ লাইনের ট্রেন যাওয়ার পর গেট খুলে দেওয়াতেই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ প্রসঙ্গে অনুপ কর্মকারের বক্তব্য, তাঁর কেবিন থেকে ডাউন লাইনের ট্রেন আসছে কি না তা সরাসরি দেখা যায় না। তিনি আরও দাবি করেন, ট্রেনের চালক যদি আগেভাগে হর্ন বাজাতেন, তাহলে তিনি সতর্ক হতে পারতেন। তবে সেই হর্নও শোনা যায়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
## স্থানীয়দের ক্ষোভ
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা গেটম্যানকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এবং মারধরও করেন বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গেটম্যানের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। যদিও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর মদ্যপ থাকার কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি।
## তদন্তে কী উঠে আসছে?
রেলের প্রাথমিক তদন্তে গেটম্যানের গাফিলতির সম্ভাবনার কথা সামনে এলেও, অনুপ কর্মকারের দাবি তদন্তে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা, সিগন্যালের অবস্থা এবং ট্রেন চলাচল সংক্রান্ত প্রোটোকল ঠিকমতো মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের যৌথ তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য প্রকৃত দায় কার।