ভূতনিতে বন্যার জলে ডুবে যুবকের মৃত্যু, তিন নাবালক কন্যাকে রেখে চলে গেলেন দ্বিজেন
**মালদা:** ২০২৬ সালের বন্যায় মালদার ভূতনি এলাকায় জলে ডুবে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। বন্যার জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক তরতাজা যুবকের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভূতনি থানার অন্তর্গত দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাল্লীটোলা এলাকায়।
মৃত যুবকের নাম **দ্বিজেন মণ্ডল (৩২)**। পেশায় কৃষক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে থাকা কয়েকটি পাটের জাঁক বন্যার জল থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন দ্বিজেন। সেই সময় আচমকাই তিনি জলের মধ্যে তলিয়ে যান বলে দাবি পরিবারের ও প্রতিবেশীদের।
দ্বিজেনের প্রতিবেশী ফুলকুমার মণ্ডলের দাবি, পাটের জাঁক সরানোর সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁকে জলে তলিয়ে যেতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে তল্লাশি শুরু করেন। পরে গ্রামবাসীরাই তাঁর দেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনার খবর দেওয়া হয় ভূতনি থানার পুলিশ এবং ব্লক প্রশাসনকে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর শুরু হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন দ্বিজেন মণ্ডল। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও **তিন নাবালক কন্যাকে** নিয়ে পরিবারটি কার্যত চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সরকারি অনুদান ও প্রয়োজনীয় সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, মানিকচক বিধানসভার বিধায়ক **গৌড়চন্দ্র মণ্ডল** জানিয়েছেন, দক্ষিণ চণ্ডীপুরে একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকার এবং তাঁরা ওই পরিবারের পাশে থাকবেন।
বন্যার জলে ডুবে এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় জলমগ্ন অংশে চলাচলের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।