6 नवंबर 2026
२४.२°C कोलकाता

मौसम

२४.२°C
साफ आसमान
महसूस
२४.५°C
नमी
७२%
हवा
११ km/h NNW
दबाव
१०१३ hPa
वर्षा (पिछले 1 घंटे)
० mm
बादल
३%
दृश्यता
१० km
सूर्योदय
०५:४४
सूर्यास्त
१६:५६

अपडेट: ०७ Nov, ०२:५४ IST

🚨
बंगाल की खबरें, दुनिया की नज़र में
ताज़ा खबर
कर्मभूमि एक्सप्रेस में भयानक अग्निकांड! कम से कम 4 डिब्बे जले, आतंक में भागे यात्री मज़दूरी के काम पर दर्दनाक अंत! नींद में ज़हरीले सांप के काटने से 18 साल के युवक की मौत, सागरदिघि में शोक की छाया चंद्रकोना पुलिस की सफलता! गुप्त अभियान में लगभग 10 किलो शब्दबाजी बरामद, एक गिरफ्तार नोदाखाली में शराब की दुकान खोलने के विरोध में महिलाओं का प्रदर्शन, तोड़फोड़ और सड़क जाम! सड़क पर शराब फेंककर आग लगाई दो जिलों की सीमा पार कर फल-फूल रहा नशे का कारोबार! निशाने पर कॉलेज छात्र भी, पुलिस के जाल में गिरोह का प्रमुख सरगना
पश्चिम मेदिनीपुर

৪২১ বছরের ঐতিহ্য! লক্ষ্মীপুরের চৌধুরী বাড়িতে দশভুজা নন, চতুর্ভুজা রূপে পূজিত হন মা দুর্গা

लेखक Editor - Bengal News Net १५४ बार पढ़ा गया ४ मिनट पढ़ें
৪২১ বছরের ঐতিহ্য! লক্ষ্মীপুরের চৌধুরী বাড়িতে দশভুজা নন, চতুর্ভুজা রূপে পূজিত হন মা দুর্গা

**নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দ্রকোনা:** দুর্গা মানেই সাধারণত দশভুজা দেবীর রূপ। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার লক্ষ্মীপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে দেবী দুর্গা পূজিত হন চতুর্ভুজা রূপে। চার হাতবিশিষ্ট দেবীর এই বিশেষ রূপকে ঘিরেই দীর্ঘ ৪২১ বছর ধরে চলে আসছে পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে মন্দিরেও। কিন্তু প্রাচীন রীতি, আচার ও নিষ্ঠা মেনেই আজও পুজোর আয়োজন করে চলেছে চৌধুরী পরিবার। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পুজোকে ঘিরে দুর্গোৎসবের দিনগুলিতে উৎসবের আবহে মেতে ওঠেন পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে গ্রামের মানুষ।


### দশভুজা নন, চতুর্ভুজা রূপেই পূজিত হন মা দুর্গা


পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা-১ ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য দেবী দুর্গার চতুর্ভুজা রূপ। সাধারণত দুর্গাপুজোর মণ্ডপে দশ হাতে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে দেবীকে দেখা গেলেও, এই বনেদি বাড়িতে চার হাতবিশিষ্ট দেবীমূর্তির আরাধনা করা হয়।


পরিবারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে প্রতি বছর পুজোর আয়োজন করা হয়। ৪২১ বছরের এই প্রাচীন পুজো শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং চৌধুরী পরিবারের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বংশপরম্পরায় চলে আসা বিশ্বাসেরও প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পরিবারের সদস্যরা এই ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছেন।


### প্রাচীন রীতি মেনেই পুজো, বন্ধ হয়েছে বলি প্রথা


সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে চৌধুরী বাড়ির পুজোতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। একসময় এই দুর্গাপুজোয় বলি প্রথা প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বলি বন্ধ হলেও পুজোর অন্যান্য প্রাচীন রীতি ও আচার-অনুষ্ঠান আজও একই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়েও পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা চৌধুরী বাড়ির পুজোকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা নিয়ম মেনে দেবীর আরাধনা করতে দুর্গোৎসবের সময় একত্রিত হন পরিবারের সদস্যরা।


### দুর্গামন্দিরের পাশেই ৫৬২ বছরের প্রাচীন ভবতারিণী মন্দির


লক্ষ্মীপুরের চৌধুরী বাড়ির পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও এক প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য। দুর্গামন্দিরের পাশেই রয়েছে ৫৬২ বছরের প্রাচীন ভবতারিণী মন্দির। এই মন্দিরে মা কালী ভবতারিণী রূপে পূজিত হন।


পরিবারের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই দুই মন্দিরই নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। দুর্গাপুজো উপলক্ষে ফুল ও আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে মা দুর্গার মন্দির এবং ভবতারিণী মন্দির। দুই প্রাচীন মন্দিরকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।


একদিকে ৪২১ বছরের দুর্গাপুজো, অন্যদিকে ৫৬২ বছরের ভবতারিণী মন্দির—এই দুই ঐতিহ্যের মেলবন্ধন লক্ষ্মীপুরের চৌধুরী বাড়িকে দিয়েছে বিশেষ পরিচিতি।


### পুজো উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন


দুর্গোৎসবকে আরও আনন্দময় করে তুলতে চৌধুরী বাড়িতে প্রতিদিন নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও মুখর হয়ে উঠেছে বাড়ির প্রাঙ্গণ।


আলো ও ফুলের সাজে সজ্জিত মন্দির এবং উৎসবের পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। পুজোকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যেমন মিলনোৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনই এলাকার মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উৎসাহ।


### কর্মসূত্রে দেশ-বিদেশে, পুজোয় ঘরে ফেরেন পরিবারের সদস্যরা


সময়ের সঙ্গে চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন। পরিবারের অনেক সদস্য আবার দেশের বাইরেও থাকেন। তবে বছরের এই বিশেষ সময়ে পুরনো বাড়ির দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সকলেই ফিরে আসেন লক্ষ্মীপুরে।


দূরত্ব যতই বাড়ুক, পারিবারিক ঐতিহ্যের টান আজও অটুট। দুর্গাপুজো যেন পরিবারের সকলকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। আত্মীয়স্বজনের মিলন, পুরনো স্মৃতিচারণ এবং একসঙ্গে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে চৌধুরী বাড়িতে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবহ।


### শুধু পরিবার নয়, পুজো দেখতে আসেন ভিন জেলার মানুষও


চৌধুরী পরিবারের দাবি, এই প্রাচীন দুর্গাপুজো দেখতে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বাইরের বিভিন্ন এলাকার মানুষও লক্ষ্মীপুরে আসেন। দেবী দুর্গার চতুর্ভুজা রূপ, প্রাচীন পুজোর রীতিনীতি এবং ভবতারিণী মন্দিরের ঐতিহ্য দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।


সব মিলিয়ে, চন্দ্রকোনার লক্ষ্মীপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো শুধুমাত্র একটি পারিবারিক উৎসব নয়, বরং দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। ৪২১ বছর ধরে চলে আসা এই পুজো প্রমাণ করে, সময় বদলালেও আন্তরিকতা, বিশ্বাস এবং পারিবারিক শিকড়ের টান কখনও ফুরিয়ে যায় না। আর সেই ঐতিহ্যের অন্যতম বিশেষ দিক—দশভুজা নয়, চতুর্ভুজা রূপে দেবী দুর্গার আরাধনা।

संबंधित समाचार

বিজ্ঞাপন দিন • Contact ads@bengalnewsnet.com